সীতাকুণ্ডে ট্রেন-জিপ সংঘর্ষে নিহত প্রগতি ইন্ড্রাষ্ট্রিজের ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বরণে এক শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৩অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) আয়োজিত শোক সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তব্যকালে শিল্প মন্ত্রী দিলীপ বড়-য়া বলেন নিহতদের প্রত্যেক পরিবার থেকে একজন করে চাকুরি পাবে। ব্যক্তিগতভাবে আমিও প্রত্যেক পরিবারকে ২০হাজার টাকা করে অনুদান দেব। তাছাড়া সিএসইসি’র চেয়ারম্যানকেও প্রত্যেক পরিবারকে এক লক্ষ টাকা করে অনুদান দেবার অনুরোধ জানাচ্ছি। এদিন বিকেল ৪টায় প্রগতি’র বাড়বকুণ্ড কারখানা প্রাঙ্গনে আয়োজিত শোকসভায় শিল্প মন্ত্রী আরো বলেন, প্রগতি ইন্ড্রাষ্ট্রিজকে ডিজিটাল কারখানায় রুপান-র করা হবে। এজন্য সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন-রিকতার সাথে কাজ করে এর অগ্রগতি অব্যহত রাখতে হবে। তিনি দূর্ঘটনায় নিহত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শোকাহত পরিবারবর্গকে সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। প্রগতি’র ব্যবস'াপনা পরিচালক প্রকৌশলী মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শোক সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপসি'ত ছিলেন বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মোঃ আবু হাফিজ, পিআইএল কোম্পানী বোডের পরিচালক এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল্লা আল বাকের ভূঁইয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন, বাড়বকুণ্ড ইউপি চেয়ারম্যান ছাদাকাত উল্লা। শোক সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কারখানার জি.এম আবুল খায়ের সর্দার। অনুষ্ঠানে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের একজন করে বক্তব্য রাখেন। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এসময় উপসি'ত সকলের চোখেই পানি এসে যায়। আরো বক্তব্য রাখেন সিবিএ সাঃ সম্পাদক আতিকুর রহমান, শ্রমিক নেতা নূর মোহাম্মদসহ আরো অনেকে। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি প্রগতি’র কাছে নিহত ব্যক্তিদের পাওনা টাকা তাদের স্বজনদের হাতে তুলে দেন। উল্লেখ্য যে, গত ২৮শে সেপ্টেম্বর প্রগতি ইন্ড্রাষ্ট্রিজের গেটে ট্রেন-জিপ সংঘর্ষে প্রগতি’র ৫কর্মকর্তা-কর্মচারী বাদল বড়-য়া, ছালেহ আহমদ, মোর্শেদ আলম, তোফায়েল আহমেদ ও আহসান উল্লা নিহত হয়।

সীতাকুণ্ডে দেশের একমাত্র সরকারী রাসায়নিক কারখানা চিটাগাং কেমিক্যাল কমপ্লেক্স চালুর প্রক্রিয়া তিন বছর ধরে ফাইল বন্দী হয়ে রয়েছে। ২০০৯ ইং সালের এপ্রিলে কারখানাটি পুনরায় উদ্ভোধনের মাধ্যমে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়-য়া সে বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই এটি চালুর ঘোষনা দিলেও সেই থেকে দীর্ঘ তিন বছর পরেও এটি চালু তো দূরের কথা সিসিসির নষ্ট যন্ত্রপাতি পুনঃস'াপন, মেরামত, জনবল নিয়োগই শুরু হয়নি। ফলে প্রতিবছর কেমিক্যাল আমদানি বাবদ হাজার হাজার কোটি টাকা চলে যাচ্ছে বিদেশে। এতে দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি মরাত্নক ভাবে বাধাগ্রস' হচ্ছে। বেসরকারীভাবে চালুর উদ্যোগটিও বেসে- গেছে।