Choloman Sitakund

 

 

সুজয় ভৌমিক

 

সীতাকুণ্ড উপজেলার নিভৃত পলস্নীতে কয়েক যুগের স্মৃতি বহনকারী  কুমার পাড়া গ্রামের মৃৎশিল্পীরা তাদের পূর্ব পূরম্নষের পেশা ছেড়ে দিতে চাচ্ছে। অনেক পেশার মতো এ গ্রামের কুমাররাও এতোদিন টিকে ছিলেন নানা প্রতিকুলতার মধ্যে। কিন' এটেঁল মাটি ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, ব্যাংক বা এনজিওর ঋণ না পাওয়া, তাদের তৈরী জিনিসের চাহিদা কমে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে তারা পেশা বদল করতে চান। সেই সঙ্গে উপজেলার কুমার সম্প্রদায় নানা প্রতিকূল অবস'ার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। ইতোমধ্যে পৈতৃক পেশায় টিকে থাকতে না পেরে অনেকে অন্য পেশায় চলে গেছে। আর যারা পৈতৃক পেশাকে আঁকড়ে ধরে আছে তাদের অবস'াও ভালো নয়। পরিবার-পরিজনদের দু’বেলার খাবার জুটছে না এ পেশা থেকে। কুমারদের অবস'া এখন নুন আনতে পানত্মা ফুরানোর মতো। তারপরও এই পেশা নিয়ে চলছে সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের কুমার পাড়ার কুমার সম্প্রদায়ের জীবন।

জানা যায়, স্বাধীনতার পূর্বে এ উপজেলায় প্রায় ১ হাজার কুমার পরিবারের বসবাস ছিল। এখন পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে মাত্র ২০/৩০ পরিবার। কুমারদের তৈরি মাটির তৈজষপত্র, খেলনা, কলস, হাঁড়ি-পাতিল, পাতকুয়া, পাটা, ফুলের টব ইত্যাদির ব্যাপক চাহিদা ছিল। উপজেলাসহ এসব মাটির তৈরি জিনিস আগে দেশের বিভিন্ন স'ানে যেত। সে অবস'া এখন আর নেই। স্বল্পমূল্যের আকর্ষণীয় টেকসই পস্নাষ্টিক সামগ্রী এসে দখল করে নিয়েছে মাটির তৈজষপত্রের বাজার। ফলে চাহিদা ব্যাপকহারে কমে গেছে। এছাড়া মাটির জিনিস খেলনা বর্তমানে সময়ের সঙ্গে পালস্না দিয়ে চলতে পারছে না।

পস্নাষ্টিকসহ অন্যান্য তৈজষপত্রের সঙ্গে পালস্না দিয়ে চলতে হলে দরকার আধুনিক প্রযুক্তি এবং মূলধন। সীতাকুণ্ডে দরিদ্র কুমার পরিবারগুলোর আর্থিক সামর্থ্য নেই। সঙ্গত কারণে মান্ধাতার আমলের ডিজাইনের তৈরি জিনিসপত্র নিয়ে এ পেশায় টিকে থাকতে পারছে না তারা। কুমারদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে স'ানীয় কিছু এনজিও সীমিত পর্যায়ে কিছু কিছু কাজ করলেও সরকারের তরফ থেকে কুমারদের সাহায্যের ব্যবস'া নেই। এই শিল্প রড়্গায় সরকার এগিয়ে এলে সীতাকুণ্ড ফিরে পেতে পারে তার হারানো ঐতিহ্য। তাই কুমাররা সরকারের সুদুষ্টি চায়।

 

Google
Web এই সাইটে