পৃথিবীতে একটি সময় ছিলো যখন পাথর ছিলো প্রতিদিনের ব্যহারের জিনিসের মধ্যে সবচেয়ে গুরোত্বপূর্ণ বস'। এটি দিয়ে আগুন ধরানো থেকে শুরু করে খাবার শিকারের জন্য পাথরের ধারালো ফলা নামে অস্ত্র ছিলো সবচেয়ে শক্তিশালী। কিন' পৃথিবীর উন্নয়নের ধারা যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছে যাচ্ছে সেখানে এই পাথরের ব্যবহার বেমালুম ভুলতে বসেছে আরামপ্রিয় প্রযুক্তি নির্ভর মানব । আশ্চর্য হলেও সত্য এখনও মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মধ্যে শিল-পাটার ব্যবহার রয়েছে । তবে এখন অনেক সৌখিন গৃহিণী এই শিল-পাটার ব্যবহার এখন একপ্রকার উঠে যাচ্ছে।
পৃথিবীতে একটি সময় ছিলো যখন পাথর ছিলো প্রতিদিনের ব্যহারের জিনিসের মধ্যে সবচেয়ে গুরোত্বপূর্ণ বস'। এটি দিয়ে আগুন ধরানো থেকে শুরু করে খাবার শিকারের জন্য পাথরের ধারালো ফলা নামে অস্ত্র ছিলো সবচেয়ে শক্তিশালী। কিন' পৃথিবীর উন্নয়নের ধারা যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছে যাচ্ছে সেখানে এই পাথরের ব্যবহার বেমালুম ভুলতে বসেছে আরামপ্রিয় প্রযুক্তি নির্ভর মানব । আশ্চর্য হলেও সত্য এখনও মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মধ্যে শিল-পাটার ব্যবহার রয়েছে । তবে এখন অনেক সৌখিন গৃহিণী এই শিল-পাটার ব্যবহার এখন একপ্রকার উঠে যাচ্ছে। টুংটাং শব্দই ভাটিয়ারী উত্তর বাজার প্রকাশ পাটা-উতা বাড়ীর অবস'ান পরিচয় করিয়ে দেয়। সীতাকুণ্ড উপজেলার মধ্যে এই ভাটিয়ারীতেই একটি পরিবার রয়েছে যারা শুধু মাত্র শিল-পাটা তৈরীর কাজে দিনের পুরো সময় কাটিয়ে দেন। শিল-পাটা তৈরীতে ঐ বাড়ীর প্রত্যেক পরিবারের প্রায় সাবাই এ কাজে ব্যস- থাকেন। শিল-পাটা তৈরীর শেষ কাজটি করে থাকেন মহিলারাই। তার আগে পাহার থেকে পাথরের বড় খণ্ড সংগ্রহ করে আনেন পরিবারের পুরুষেরা। পাথরের তৈরী এই শিল-পাটা দিয়ে রান্নার জন্য মশলা পেষে রান্নার উপকরণ তৈরী করতো। এখন এই পাথরের শিল-পাটার ব্যবহার তেমন চোখে পড়ে না। তবে আমাদের দেশে বিয়ের গায়ে হলুদ-মেহদী এই শিল-পাটা ছাড়া যেন একদম চলে না। এক শিল-পাটা তৈরী ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন জানান, আমাদের শিল-পাটা বিদেশেও পাঠিয়ে থাকি। আরব-আমিরাতেও নাকি এই শিল-পাটা ব্যহারের বেশ জনপ্রিয়তা আছে। শিল-পাটা ব্যবসায়ী ভাটিয়ারী উত্তর বাজার আমিন মেম্বার বাড়ির বাসিন্দা এই ব্যবসার সাথে জড়িত ছোট কালথেকেই। তার বাপ-দাদার এ পেশা অনেক কষ্ট করেই টিকিয়ে রেখেছেন। তার নিজের একটি হার্ডওয়্যারের দোকান রয়েছে। তিনি সেখানে দৈনিক শ্রমিক দিয়ে এখন এই শিল-পাটা তৈরী করে যাচ্ছেন। ৮বছর থেকে শিল-পাটা তৈরী করে আসছেন মোঃ সেলিম নামে এক মৃৎশিল্পি । তিনি ভাটিয়ারীর এখন বড় শিল-পাটা ব্যবহার তৈরীর বড় মিস্ত্রি। তার সাথে কথা বলে জানা গেছে প্রথমে পাহাড় থেকে বড় আকারের ১ নম্বর করালা পাথর সংগ্রহ করার পর ভোল্টার আকারের করে প্রাথমিক শিল-পাটার একটি আনুমানিক আকার করা হয়।এরপর মহিলাদের দিয়ে শেষ শিল-পাটার আকার ফিরিয়ে আনেন। যার উপরেই রান্নার মসলা দব্য পেষন করা হয়। ভাটিয়ারী উত্তর বাজারের প্রকাশ শিল-পাটা বাড়ীর প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষ এই মৃৎশিল্পের সাথে জড়িত। একই বাড়ীর ইদ্রিস,সিরাজুল,হামিদুল,আবু,আফসার,সহ অনেকে আছেন যাদের সংসার চলে এই মৃৎশিল্প ব্যবসার উপর নির্ভর করে। ইউসুফ নামে এক মৃৎশিল্পি জানান,তাদের এই শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। অনেক কষ্ট করে টিকিয়ে রেখেছেন এই বাপ-দাদার পেশা। একটি পাথর থেকে শিল-পাটা তৈরী করতে ২৫০ টাকা পারিশ্রমিক খরচ পরে যায়। অথচ বিক্রি করে মাত্র ৫০ টাকা লাভ হয় এই শিল-পাটা ব্যবসায় । বর্তমানে ছোট মাঝারী বড় আকারের শিল-পাটার মূল্য ২০০,২৫০,৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তাদের অন্য কোন কাজ করতে না পারায় একমাত্র নির্ভরশীল এ শিল্পের প্রতিবন্ধকতাও কম নয়। যখন শহরের কোথাও এই শিল-পাটা বিক্রির জন্য নেওয়া হয় তখন বেশ কিছু জায়গায় টাকা খরচ করতে হয়। গাড়ী আটক করে সাদাপোষাকে অনেকে চাঁদা-দাবী করেন। শিল-পাটা তৈরীর এ মৃৎশিল্প না করেও উপায় নেই। দূর্দান- থেকে শিল-পাটা ক্রয়ের জন্য অগ্রীম অর্ডার আসে। কোন রকম এই শিল্প টিকিয়ে রেখেছেন ভাটিয়ারী একটি পরিবারের শতাধিক নারী-পুরুষ।
সুজয় ভৌমিক
সীতাকুণ্ড উপজেলার নিভৃত পলস্নীতে কয়েক যুগের স্মৃতি বহনকারী কুমার পাড়া গ্রামের মৃৎশিল্পীরা তাদের পূর্ব পূরম্নষের পেশা ছেড়ে দিতে চাচ্ছে। অনেক পেশার মতো এ গ্রামের কুমাররাও এতোদিন টিকে ছিলেন নানা প্রতিকুলতার মধ্যে। কিন' এটেঁল মাটি ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, ব্যাংক বা এনজিওর ঋণ না পাওয়া, তাদের তৈরী জিনিসের চাহিদা কমে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে তারা পেশা বদল করতে চান। সেই সঙ্গে উপজেলার কুমার সম্প্রদায় নানা প্রতিকূল অবস'ার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। ইতোমধ্যে পৈতৃক পেশায় টিকে থাকতে না পেরে অনেকে অন্য পেশায় চলে গেছে। আর যারা পৈতৃক পেশাকে আঁকড়ে ধরে আছে তাদের অবস'াও ভালো নয়।